যে জীবন শালিকের, ফড়িং এর সাথে তার হয় নাকো দেখা

ঘড়িতে রাত বেজে আড়াইটা। নর্থ সাউথের আফসানা তার কানাডা সিটিজেন বয়ফ্রেন্ড ইশতিয়াকের সাথে মেসেঞ্জারে ভিডিও কলে ব্যস্ত। আফসানা নর্থ সাউথের নামকরা সুন্দরী আর ইশতিয়াক তার দুই বছরের সিনিওর। ভার্সিটির প্রথম পহেলা বৈশাখে লম্বা গড়নের ইশতিয়াককে দেখেই প্রেমে পড়ে যায় আফসানা। সেখান থেকেই পরিণয় ।

ইশতিয়াক অস্থির গান গায়। আজ রাতে ঘুমানোর আগে সে ইশতিয়াক এর গান শুনে ঘুমাতে চায়। কিন্ত হুট করে আসছি বলেই ইশতিয়াক লাপাত্তা। এতে বড্ড বিরক্ত সে। যে আফসানার কাছ থেকে একটা রিপ্লাই পাবার জন্য হাজারো ছেলে মুখিয়ে থাকে তাকে ইগ্নোর কীভাবে করে ইশতিয়াক?
এদিকে আফসানা ইশতিয়াক এর অনেকগুলা সাইড প্রোজেক্ট এর একটা। সেই স্কুল লাইফে ভিএনসির ফারিহা তাকে ডিচ করে স্কলাস্টিকার রায়হান এর সাথে রিলেশনে যায়। সেই থেকে আর ওসব মন থেকে আসে না তার। আফসানার সাথে কথা বলার সময় ই ব্র্যাক এর বুনন তাকে নক দিয়েছে।
আজ বুননের ২২ তম জন্মদিন। বুনন বায়না ধরেছে "তোমার জন্য নীলচে তারা " গানটা তাকে শোনাতে হবে। তাই সেখানেই ব্যস্ত সে। আর হর-হামেশা ইগ্নোর না করে লয়্যাল ছেলে হয়ে থাকলে আফসানারা চলে যায় এটা ইশতিয়াক এতদিনে বুঝে গেছে।
আফসানা খুব মন খারাপ করে ফেসবুকে পোস্ট করল - " A responsible man is better than a handsome man ".
নিমিষেই ফ্রেন্ডলিস্ট এর ছেলেগুলো পংগপালের মত পোস্ট এ এসে তাকে সান্ত্বনা দিতে লাগল। আফসানার বেস্ট ফ্রেন্ড ঈশা সব বুঝতে পেরেও কমেন্টে লিখল -" One day they will regret losing you "। আফসানাকে রূপের কারণে প্রচন্ড হিংসা করে ঈশা আর অন্যান্য মেয়েরা। তারপর ও লোক দেখানো সিম্প্যাথি দেখাতে লাগল সবাই।
তবে ফ্রেন্ডলিস্ট এর কোন ছেলেই ইনবক্স এ যায় নাই। কারণ ওরা জানে রাশিয়ার তেল ফুরাইতে পারে, সোলাইমান সুখনের মোটিভেশন ফুরাতে পারে, কক স্টুডিওর গার্বেজ এর ভান্ডার শেষ হইতে পারে কিন্তু আফসানার পিছনে মজনু হয়ে ঘুরে বেড়ানোর মত যুবক এর সংখ্যা শেষ হবে না। তবে একজন ট্রাই নিল। সে আর কেউ ই না - বদরুল।
বদরুল অত্যন্ত রেসপন্সিবিল ছেলে। অসুন্দরী মেয়ের যেমন ফেমিনিনিস্ট হইতেই হয় তেমনি গরীবের বাচ্চাকেও রেসপন্সিবল হইতে হয়। বদরুল তাই তার সস্তার সিম্ফোনি স্মার্টফোন থেকে মেসেঞ্জারে আফসানানে টেক্সট করল - "Don't be sad. Allah is the best planner ".
বদরুল এই কথাগুলো বাংলায় ও লিখতে পারত। কিন্তু এরকম ক্রুশিয়াল মোমেন্ট এ তুমি যতই খ্যাত হওয়া না কেন কী-বোর্ড থেকে ইংরেজি ই বের হয় "
আফসানা বিরক্ত হয়েই রিপ্লাই দিল "thanks".
বদরুল ভাবল আজ তার ঈদ। সে সাথে সাথেই টেক্সট করল- " ekhn ki koren? "
আফসানা বলল - "kichu na. Ekhn ghumabo. Talk to you letter "
সারারাতে আর ঘুম হলো না বদরুলের। রাতের বেলায় সে স্বপ্নে আফসানাকে দেখল বধুর বেশে। খুব সুন্দর সেই স্বপ্ন। সকালে ক্লাস না থাকলে স্বপ্নেই বাসর সেরে ফেলত সে।
ক্লাস এ যেয়েই সে তার জিগরি দোস্ত দেলোয়ার কে খুলে বলল সব। দেলোয়ার এর খুবি হিংসা হল। দেলোয়াড় এর দৌড় বড়জোড় হোম ইকোনোমিক্স এর মর্জিনা পর্যন্ত। বদরুল নর্থ সাউথে খেলবে এটা সে মানতে পারে না। সে তারপরো বদরুল কে বলল - "মামা, খেলে দাও "
দেলোয়ার বদরুলকে এডভাইস দেয় "মামা সবসময় নক দিবি, রাতে খেয়েছি কিনা জিজ্ঞেস করবি । ছবি চাবি, ছবি দিবি "। বদরুল এর বেইজ্জতি দেখতে চায় দেলোয়াড়। এসব এর কিছুই বোঝে না সাদামাটা বদরুল। সারাটা জীবন শুধু পড়ালেখাই করছে সে। অত ফিচলা বুদ্ধি তার নাই। সে বিশ্বাস করে পুরো দুনিয়ায় অন্তত দেলোয়ার তার অনিষ্ট সাধন করবে না।
বদরুল ও দেলোয়ারের কথামত কাজ করে। আফসানা বিরক্ত হয় কিন্তু বলে না। ছেলেদের নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরাতে ওস্তাদ দে। কিন্তু বদরুল বেশি করছে। গন্ডারের চামড়া না হলে এভাবে সিম্পিং করে না কেউ। এক্সপোজ করে ওর পিন্ডি চটকাতে চায় সে। কিন্তু বদরুল এখনো লাইন ক্রস করতেছে না, এক্সপোজ করে তাই লাভ হবে না। এইকারণে ব্লক দিচ্ছে না সে। সে শুধু দেখতে চায় আর কী কী করে বদরুল!
বদরুল খাইতে যায় আফসানাকে খাবারের ছবি দেয়। টিএসসি তে দেলোয়ার কে দিয়ে ছবি তুলে সেগুলোকে আফসানাকে দেয় সে। বদরুল মন খারাপ করলে দেলোয়ার সান্ত্বনা দেয় -"মামা,মেয়েদের বুক ফাটে তবু মন ফাটে না। "
এভাবেই এক বৃষ্টি ভেজা রাতে দেলোয়ার এর পরামর্শে বদরুল স্যান্ডোগেঞ্জি পড়া অবস্থায় তার ছবি দেয় আফসানকে। সাথে লেখে "Bristy hocce, miss korsi "
ব্যাস! এইবার স্কিনশট জোগাড় করে সে তার বেস্টি আক্কাসকে দেয়। আক্কাস ক্লাসে মেয়েদের ছবি তুলে দেয়, টুর এ তাদের লাগেজ টানে, ক্যাম্পাসে মেয়েদের দেখভাল করে। সে মেয়েদের দেখাতে বিড়াল পোষে, বিটিএস এর গান শোনে, বই পড়ে, পিরিয়ড নিয়ে পোস্ট করে। আক্কাস কে মেয়েরা ভাই বানায়, বেস্টি বানায় কিন্তু জান বানায় না। তবুও সে চেষ্টা চালায় যায়।
আফসানাকে ইম্প্রেস করার চেষ্টা করতে চায় আক্কাস। সে আইডি থেকে পোস্ট করে - "পাব্লিক ভার্সিটি টে পড়ে বলেই কি বদরুলের উপর হুমড়ি খেয়ে পড়তে হবে। এদের কে পুরুষ বলতেই ঘেন্না হয়। "
এভাবেই পুটু মারা খেয়ে যায় বদরুল। পুরো ঘটনা না জেনেই সিম্প এর দল বদরুল এর পুটু মেরে যায়। রাগে, দু:খে, ক্ষোভে সারাজীবনের জন্য চিরকুমার থাকবে ডিসাইড করে ফেসবুক আইডি ডিজেবল করে দেয় বদরুল।
ঘটনা স্থিমিত হলে আফসানা কে পরের দিন রাতে নক দেয় আক্কাস। আক্কাস আজ মনের কথা বলেই দিল তাকে। আফসানা বলল - "তোকে আমি ওই চোখে দেখি না দোস্ত। আমি চাই তুই অনেক ভাল।থাক। নিশ্চয় ই সামনে অনেক ভাল কাউকে পাবি। আজকের পর থেকে আর আমার সামনে আসিস না "
এই কথা শুনে পুরাই বোকচোদ হয়ে গেল আক্কাস। একটা গোল্ডলিফ ধরিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করল আক্কাস -
"যে জীবন শালিকের, ফড়িং এর সাথে তার হয় নাক দেখা "
তৎক্ষণাৎ ইশতিয়াক নামের একটা আইডি থেকে পোস্ট এ কমেন্ট আসল - "First time? "
আর পরবর্তী কমেন্টে দেলোয়ার লিখল "us"

Comments