Posts

ভালোবাসা ছোঁয়াচে

  পেট খারাপ করছিলো। একটা হোটেলে গেলাম রাতের খাবার খাইতে। মাছ মাং'স কিছুই খাইতে ইচ্ছা হচ্ছিলো না। বয়কে বললাম, ভাত, ডাল আর আলু ভর্তা দিতে। পাশের টেবিলে দেখি ০৩ জন বসে গরুর মাং'স দিয়ে ভাত খাচ্ছে। একজন আবার আমার বন্ধু শিহাবের মতো দেখতে। আমি আলু ভর্তা দিয়ে ভাত মেখে মুখে দিতে দিতে কয়েকবার শিহাব সদৃশ মানুষটার দিকে তাকাচ্ছিলাম। একটুপর দেখলাম, এক বাটি গরুর মাং'স দিয়ে গেলে বয়। বললো, ঐ টেবিল থেকে আপনার জন্য দিছে, টাকা ওনারা দেবে, আপনে পেট ভরে খান। আমি বিস্মিত হয়ে গেলাম। অপমানিতবোধ করলাম না একটুও। মনে হলো, এখনও এই পৃথিবীর মানুষ কতো ভালো। এই নক্ষত্রভরা রাতে ০৩ জন মানুষ চাচ্ছে, আরও একজন মানুষ তাদের মতো করে গরুর মাং'স দিয়ে ভাত খাক। আমি খাওয়া শেষ করে মোট ০৪ জনের বিল দিয়ে চুপিচুপি চলে আসলাম। এই নক্ষত্রভরা রাতে ঐ ০৩ জন মানুষও জানুক, ভালোবাসা ছোঁয়াচে।

যে জীবন শালিকের, ফড়িং এর সাথে তার হয় নাকো দেখা

ঘড়িতে রাত বেজে আড়াইটা। নর্থ সাউথের আফসানা তার কানাডা সিটিজেন বয়ফ্রেন্ড ইশতিয়াকের সাথে মেসেঞ্জারে ভিডিও কলে ব্যস্ত। আফসানা নর্থ সাউথের নামকরা সুন্দরী আর ইশতিয়াক তার দুই বছরের সিনিওর। ভার্সিটির প্রথম পহেলা বৈশাখে লম্বা গড়নের ইশতিয়াককে দেখেই প্রেমে পড়ে যায় আফসানা। সেখান থেকেই পরিণয় । ইশতিয়াক অস্থির গান গায়। আজ রাতে ঘুমানোর আগে সে ইশতিয়াক এর গান শুনে ঘুমাতে চায়। কিন্ত হুট করে আসছি বলেই ইশতিয়াক লাপাত্তা। এতে বড্ড বিরক্ত সে। যে আফসানার কাছ থেকে একটা রিপ্লাই পাবার জন্য হাজারো ছেলে মুখিয়ে থাকে তাকে ইগ্নোর কীভাবে করে ইশতিয়াক? এদিকে আফসানা ইশতিয়াক এর অনেকগুলা সাইড প্রোজেক্ট এর একটা। সেই স্কুল লাইফে ভিএনসির ফারিহা তাকে ডিচ করে স্কলাস্টিকার রায়হান এর সাথে রিলেশনে যায়। সেই থেকে আর ওসব মন থেকে আসে না তার। আফসানার সাথে কথা বলার সময় ই ব্র্যাক এর বুনন তাকে নক দিয়েছে। আজ বুননের ২২ তম জন্মদিন। বুনন বায়না ধরেছে "তোমার জন্য নীলচে তারা " গানটা তাকে শোনাতে হবে। তাই সেখানেই ব্যস্ত সে। আর হর-হামেশা ইগ্নোর না করে লয়্যাল ছেলে হয়ে থাকলে আফসানারা চলে যায় এটা ইশতিয়াক এতদিনে বুঝে গেছে। আফসানা খুব মন ...

উনত্রিশ ফেব্রুয়ারি -- ১

প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। সাইমুনের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল তৃপ্তি। বাবার অবর্তমানে মায়ের কাছেই সম্পুর্ণ অফিসের দায়িত্ব। চলমান প্রজেক্টের বিষয় জরুরি আলোচনা করার জন্য সাইমুনকে ডেকেছিল। আংশিক ত্রুটির কারণে খানিকটা বকাঝকা করারও নিয়্যাত ছিল। কিন্তু সাইমুনের মুখে তার ব্যক্তিগত জীবনের এমন ঘটনা শুনে তৃপ্তি নিজেও খানিকটা মনমরা হয়ে গেল। বলল , - এরকম পরিস্থিতিতে আপনার ছুটি নেয়া উচিত ছিল। কিন্তু তা না করে আপনি দিব্যি অফিস করে যাচ্ছেন। নাকি স্ত্রী আর বাঁচবে না শুনে তার প্রতি সকল ভালোবাসা কমে গেছে! - সেরকম কিছু নয়। অফিসের একটা বড় প্রজেক্ট আমার হাতে রয়েছে। এমতাবস্থায় আমি দায়িত্বটা কারো উপর দিতে পারছি না। কাজটাও প্রায় শেষ পর্যায়ে। তাই আমার জন্য কোম্পানির কোনো ক্ষতি হোক সেটা চাই না। তৃপ্তি নোটবুকটা এগিয়ে দিয়ে বললো , - আপনার বাসার সম্পুর্ণ ঠিকানা এখানে লিখে রাখুন। - কেন ম্যাম? - আপনি তো আগামীকাল সম্ভবত চট্টগ্রামে যাচ্ছেন। যেহেতু দায়িত্বে অবহেলা করবেন না সেহেতু ধরেই নিচ্ছি আপনি যাচ্ছেন। আপনার অবর্তমানে যেন আপনার বাসার খোঁজ খবর নিতে পারি সেজন্যই ঠিকানা চাচ্ছি। - ওকে। নোটবুকে ঠিকানা লিখে দিয়ে সাইমুম রু...